গাজীপুরের টঙ্গীর চাঞ্চল্যকর শিশু গণধর্ষণ-হত্যা রহস্য উদঘাটন
- In -- আইন ও অপরাধ --
- May 18, 2020 --
গাজীপুরের টঙ্গী মধুমিতা রেলগেট এলাকার ময়লার স্তুপ থেকে উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশুকে গণধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে রর্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোরকেও আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) র্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্প থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আটক নিলয় (১৫) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার কুমড়ি এলাকার ওমর ফারুকের ছেলে। সে টঙ্গী পূর্বথানা এলাকার বেলতলা এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করে। তার অপর সঙ্গী পলাতক রয়েছে।
র্যাব জানায়, গত শনিবার (১৬ মে) সকালে টঙ্গীর মধুমিতা রেলগেট এলাকার একটি ময়লার স্তুপ থেকে একই এলাকার ভাড়াটিয়া মামুন মিয়ার মেয়ে চাঁদনীর (৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের গলায় ও দুই পায়ে আঘাতের চিহ্নসহ ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১ এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দিবাগত আড়াইটার দিকে র্যাব-১ র একটি আভিযানিক দল টঙ্গী রেল স্টেশন এলাকা থেকে গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিলয়কে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে নিলয় র্যাবকে জানিয়েছে, মেয়েটি নিলয়ের পূর্বপরিচিত। তাদের উভয়ের পরিবার একই ভবনে ভাড়া থাকে। গত ১৫ মে বিকালে মেয়েটি খেলা করতে মাঠে গেলে নিলয় এবং অপর পলাতক সহযোগী মেয়েটিকে চোখে চোখে রাখে।
খেলাধূলা চলাকালীন নিলয় তাকে কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে ফুল পেড়ে দেয়। মেয়েটি বাসায় ফেরার পথে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে আশেপাশে লোক সমাগম কমে যায়। তখন নিলয় ও তার সহযোগী মেয়েটিকে চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মধুমিতা রেলগেট এলাকায় ইটেরস্তুপের আড়ালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তারা মেয়েটির ওপর একাধিকবার পাশবিক নির্যাতন চালায়।
সেসময় মেয়েটি কান্নাকাটি করে ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বাড়ি গিয়ে গিয়ে মেয়েটি সবাইকে বলে দেবে ভেবে পলাতক ধর্ষক মেয়েটির গলাটিপে ধরে এবং নিলয় মেয়েটির দুই পায়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা মেয়েটির লাশ ময়লার স্তুপে ফেলে রেখে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

1576306355.gif)
1576304475.gif)