গাজীপুরের কোনাবাড়ীর নিউ মুন আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান ম্যানেজারসহ ৮ জন গ্রেফতার

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকার নিউ মুন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে হোটেলে ম্যানেজারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে কোনাবাড়ী মেট্রো থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৪ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিউ মুন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ পেয়ে কোনাবাড়ী মেট্রো থানা পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে হোটেলটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৪ জন নারী ও ৪ জন পুরুষকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিউ মুন আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার মো. তারেক শিকদার (২৩)। তিনি হোটেলটির মালিক স্বপ্ন মিয়ার ভাগিনা। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কালীশ্বরী বাজার সংলগ্ন এলাকায়। এছাড়া গ্রেফতার হয়েছেন হোটেলের স্টাফ মো. মামুন মিয়া (৪২), মো. মামুন মিয়া ওরফে রুবেল (২১), মো. রবিউল ইসলাম (২৪) এবং ৪ জন নারী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিউ মুন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। এছাড়া সেখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগও রয়েছে। হোটেলটির মালিক স্বপ্ন মিয়ার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের দাঁতেরকাঠি গ্রামে। তিনি মৃত বদু কান্দারের ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ পুলিশের অভিযানের পর স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে নিউ মুন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন নারী ও ৪ জন পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবাসিক হোটেলগুলোর আড়ালে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেছে পুলিশ।