শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্লাস্টারের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
- In -- জেলার খবর --
- Jul 11, 2026 --
গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে এক কিশোরীর হাতে প্লাস্টার করার নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) আরিফের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।জানা যায়, আহত এক কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। সেখানে কর্তব্যরত এসএসিএমও কিশোরীর হাতে প্লাস্টার করার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে এ সেবার জন্য অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রাপ্য সেবার বিপরীতে অর্থ দাবি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সরকারি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করা হয়। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দাবি করে থাকেন, তবে তা সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।" এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগীদের যদি অতিরিক্ত অর্থের মুখোমুখি হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন সবার নজর।

1576306355.gif)
1576304475.gif)