গাজীপুর মহাসড়কে অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২

গাজীপুর মহানগরীর বাসন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশার চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাসন সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনাবিল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছিল। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা বিনিময় পরিবহনের আরেকটি বাস সামনের বাসটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়।সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা চালকসহ দুইজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের সামনের অংশে অটোরিকশাটি আটকে যায়। হতাহতদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। পরে বাসের সামনের অংশ কেটে অটোরিকশায় আটকে থাকা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তিনি বলেন, “উদ্ধারকৃত মরদেহ দুটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, “যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশার চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল, অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রী ওঠানামা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাস দুটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।